আগামী জুন মাসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে থাকা সব সেনাসদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ মে) আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে।
এর আগে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামায়। পরবর্তী সময়ে সে বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে সময়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়লে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী জনগণের মূল ভরসার জায়গায় পরিণত হয়।
সামাজিক অপরাধের ব্যাপক বিস্তার ঘটলে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প বা কার্যালয় স্থাপন করে অপরাধ দমন ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেনা ও নৌবাহিনী। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর এখন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। প্রথমে দূরবর্তী জেলা থেকে প্রত্যাহার হবে, পরে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠপর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার কোর কমিটি প্রথম সভায় বসে। গত ২১ এপ্রিল আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই সভায় মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারা দেশের চাঁদাবাজি, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।












